নজরদারির অভাবে ‘লাইফসার্পোটে’ সেবা বাহন

বগুড়ার শাজাহানপুরে গ্রামীণ দুঃস্থ মানুষের চিকিৎসা সেবায় সহযোগিতার জন্য এলজিএসপি ২ প্রকল্পের অর্থায়নে চালু হওয়া গ্রামীণ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ‘সেবা বাহন’ সংশ্লীষ্ট প্রশাসনের নজরদারির অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
দীর্ঘদিনের অযত্ন আর অবহেলায় ধুলাবালি ও মরীচিকা ধরে সেবা বাহনের প্রতিটি যন্ত্রাংশ ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলে গ্রামীণ দুঃস্থ মানুষেরা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের ১৮ লক্ষাধিক টাকা জলে যেতে বসেছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের হতদরিদ্র রোগীরা যাতে স্বল্প খরচে ২৪ ঘণ্টা গ্রামীণ অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পায় সে লক্ষ্যেই ২০১৬ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাফিউল ইসলাম এলজিএসপি ২ প্রকল্পের অর্থায়নে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। একই বছরের ২ অক্টোবর মহা ধুমধামে এই মহৎ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন এবং উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের হাতে সেবা বাহনের চাবি তুলে দেন।

প্রথম প্রথম ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সেবা বাহনের কার্যক্রম শুরু হলেও উদ্বোধনের দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণা না থাকায় জনসচেতনার অভাব, দায়িত্ত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বহীনতা আর নজরদারির অভাবে সেবা বাহনের সফলতা নিয়ে কানাঘোষা শুরু হয়। ব্যক্তিগত কাজে সেবা বাহন ব্যবহার না করার কথা থাকলেও তা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এমনকি ভাড়ায় যাত্রীবহন করতেও দেখা গেছে। সেবা বাহনের সেবা পেতে নির্দিষ্ট নাম্বারে ফোন করেও পাওয়া যেত না বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।
ডেমাজানী কমর উদ্দিন সরকারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ এইচ এম শফিকুত তারিক মাসুম বলেন, সেবা বাহন নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ ছিল। এর সুফল শুধুমাত্র দরিদ্র জনগোষ্ঠিই ভোগ করতো না রাষ্ট্রীয়ভাবেও এটি প্রশংসিত হতে পারতো। কিন্তু সংশ্লীষ্ট প্রশাসনের নজরদারি, অনিহা আর অবহেলার কারণেই এই মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।
আশেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম জানান, শহরের কাছাকাছি হওয়ায় সেবা বাহনে কেউ উঠতে চায় না। তাই সেবা বাহনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

খরনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান শাহীন জানান, সেবা বাহনের কার্যক্রম না থাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। সেবা বাহন পরিচালনার জন্য নির্দিষ্টভাবে লোক নিয়োগ করে বেতন দেওয়া হলে সেবা বাহনের সুফল পাওয়া যেত। কিন্তু এরকম কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে মানুষ। তবে সেবা বাহন একটি মহৎ উদ্যোগ ছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ফুয়ারা খাতুন জানান, উদ্যোগটি নিয়ে ছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে বিষয়টি দেখার সুযোগ হয়ে উঠেনি। তারপরও যতদ্রুত সম্ভব বিষয়টি আমলে নিয়ে নতুন করে সেবা বাহনের কার্যক্রম চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *